
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) কোনো নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি ভারত, চীন, জাপান ও রাশিয়া। অর্থাৎ এ সময়ে এই চার দেশের অর্থায়নে নতুন কোনো প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগের প্রকল্পগুলোর জন্য তারা ঋণের অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে।
এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকেও এই সময় নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি মেলেনি।
রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত জুলাই–অক্টোবর সময়ের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চার মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ১২১ কোটি ডলারের নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং সাড়ে এক কোটি ডলারের মতো প্রতিশ্রুতি এসেছে বিশ্বব্যাংক থেকে। অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থা মিলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সাড়ে ৬১ কোটি ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে পাওয়া ঋণ প্রতিশ্রুতি ছিল প্রায় ২৫০ কোটি ডলার, যা এবারের তুলনায় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বেশি।
জুলাই–অক্টোবর সময়কালে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া—৪০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য।
এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক—৪০ কোটি ৫২ লাখ ডলার, এবং এডিবি—প্রায় ২৫ কোটি ডলার।
চীন ছেড়েছে ১৯ কোটি ডলার, ভারত ৮ কোটি ডলার, এবং জাপানও ৮ কোটি ডলার।
ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার মাসে মোট ঋণ ছাড় হয়েছে ১৬৬ কোটি ডলার, অন্যদিকে আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৫৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে আসল শোধ ১০২ কোটি ডলার এবং সুদ ৫৬ কোটি ডলার।
ফলে দেখা যাচ্ছে, ঋণ ছাড়ের হার বাড়লেও ঋণ পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের ঋণ ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ তৈরি করছে।